সর্বশেষ আপডেট
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়িতে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার অরুয়াইল ইউপি নির্বাচনে আবদুল হাকিম দলীয় মনোনয়ন সহ বিজয় প্রত্যাশী সরাইল উপ-নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার চেস্টায় ৩ তরুণীর কারাদণ্ড সরাইল চুন্টা ইউপি’র উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী কুড়িগ্রামে পাওয়ার ট্রিলারের ফলায় জড়িয়ে শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে বিএনপির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে শিশু- নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি ও মতবিনিময় সভা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সহায়ক উপকরণ পেলেন কুড়িগ্রামের ২৫ জন দুঃস্থ প্রতিবন্ধী কুড়িগ্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার
প্রবাসীদের না বলা গল্প : ব্লগার মীর

প্রবাসীদের না বলা গল্প : ব্লগার মীর

মিলন হাজারী,সৌদি প্রতিনিধিঃ
ব্ল’গার মীর সজিব আপনার ধারণায় প্রবাসীরা কেমন আছে?

ব্ল’গার মীরঃ স্বপ্নের দেশে বহু টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে
প্রবাসে পাড়ি দেওয়া।
প্রবাসে কেমন আছে আপনার আমার বাবা- ভাই,
একবার ও কি ভেবেছেন বা জিজ্ঞেস করেছেন???না! কেন জিজ্ঞেস করবেন! বাড়িতে থাকাকালীন সময় তো এই ছেলেটি বেশি দু’ষ্টু ছিলো, পড়ালেখায় খুব দূ’র্বল ছিলো। পরিবারের অবহেলিত ছেলেটিই তো আজ প্রবাসে।
নিশ্চয় খুব ভালো আছে। এত টাকা খরচ করে প্রবাসের টিকিট হাতে ধরিয়ে দিয়েছি ভালো থাকার জন্যই।
হ্যা আপনার ছেলে বা ভাই খুব ভালো আছে। অনকে ভালো আছে।

মাসে মাসে অনেক টাকা আপনার হাতে দিচ্ছে।
প্রবাসে যাওয়ার টিকিট এর জন্য ঋ’ণ করে আনা সব টাকাই প্রায় পরিশোধ করা শেষ।
হয়তো কারো নসিবে খারা’পটা লেখা থাকে তাই পরিশোধ করতে পারে না।
প্রবাসজীবন তার জন্য অন্ধকার ডেকে আনে।
হয়তো এর সংখ্যাটা খুবই নগ’ণ্য।

মূল কথায় আসি,
হ্যা, আপনার ছেলে বা ভাই প্রবাসে খুব ভালো আছে! পরিবারের সবাইকে ছেড়ে অনেক ভালো আছে। যে ছেলেটি বাসার সবার সাথে সারাদিন পাগলামিতে মেতে থাকতো সে আজ প্রবাস জীবনে অনেক ভালো আছে। বাবা-মা’য়ের ধমক খেতে হয় না। নিজের মনে যা চায় তাই করতে পারে।
অনেক টাকাও রোজগার করতেছে। এই অনেক টাকাটাই যে তার জন্য আজ অভি’শাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অনেক টাকা রোজগারের স্বপ্নটাই তাকে আজ সাইলেন্ট পয়েজন এর মতো ধুঁকেধুঁকে তাকে শেষ করে দিচ্ছে।
তারপরেও কি আমি বা আপনি জিজ্ঞেস করেছি কেমন আছে তারা???

হ্যা, ভালো তো অবশ্যই আছে। ভালো না থাকলে কি আর এত টাকা দেশে পাঠাচ্ছে?
হ্যা, তারা ঐ- সুদূর প্রবাসে অনেক ভালো আছে।
বাবা-মা, ছোট ভাই-বোন, বৌ-বাচ্চা তাদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য অই স্বপ্নের দেশে পাড়ি দিচ্ছে।
সারাদিন একটা প্রাণহীন মেশিনের মতো কাজ করে যাচ্ছে।
বিনিময়ে কিছু টাকা পায়, যা সাথে সাথেই আমার বা আপনার হাতে পাঠিয়ে দিচ্ছে।আমি আর আপনি এই টাকা দিয়ে কি করতেছি???

পুরাতন বাড়িটা ভেঙে নতুন বিল্ডিং বানাচ্ছি। সুন্দর সুন্দর ফার্নিচার কিনতেছি। ভালো ভালো সুস্বাদু খাবার খাচ্ছি। নতুন নতুন কাপড় কিনতেছি। ধুমধাম করে চলতেছি। অনেক সুখে আছি। আর প্রবাসে যে আপনার আমার ছেলে বা ভাই কেমন আছে তা জিজ্ঞেস করেছি একবার??
হ্যা,ভালো আছে তো, দুইদিন পরপর বাসায় ফোন দেয়, সবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলে।
মাসে মাসে অনেক টাকা পাঠায়।
জিজ্ঞেস ও করি, বলে অনেক ভালো নাকি আছে।
হাহাহহাহাহাহা,
হ্যা, অনেক ভালো আছে তারা ঐ প্রবাসে।
একবার ও কি ভেবে দেখেছেন?? আসলেই কি তারা ভালো আছে? ওদের নিয়ে একটু গভীর চিন্তা করেছেন???ঐ সুদূর প্রবাসে তারা ভাল নেই।

কেন ভালো থাকবে, কিভাবে ভালো থাকবে??
আপনার আমার চাওয়াটাইতো ওরা শেষ করতে পারে না।ছোট ভাইয়ের আবদার, ভাইয়া আমার জন্য একটা আইফোন দিবেন। একটা ল্যাপটপ দিবেন। ছোট ভাইয়ের আবদার গুলো এক একটা তীরের মতো কলিজায় বিঁধে। একটা আইফোন, একটা ল্যাপটপ কিনতে যে টাকাটা লাগে তা অই প্রবাসীর একমাসের কষ্টের উপার্জিত টাকার চেয়েও বেশি। ছোট ভাইয়ের আবদার মিটাতেই হবে।

সেই আবদার মেটাতে আবার মেশিনের মতো কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলো,তারপরেও ছোট ভাইয়ের আবদার মেটাতে যে হবে।নিজের স্ত্রীকে-ও খুশি করা লাগে,ছোট ভাইকে এত কিছু দিলে আমার জন্য কি দিবে?খুব সাধারণ প্রশ্ন। হ্যা, বলো তোমার কি লাগবে?পাশের বাড়ির ভাবীর গলায় একটা স্বর্ণের নেকলেস দেখেছি অনেক সুন্দর।আমি তোমাকে IMO তে ছবিটা পাঠাবো। আমাকে কিনে দিও প্লিজ।
হ্যা, আচ্ছা কিনে দিবো। স্ত্রী-র মন র’ক্ষার জন্য আবার সেই মেশিন হওয়া। ছেলে মেয়ের আবদার তো বাদ-ই দিলাম। যার কোন শেষ নেই। মাসে মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হবে বিশ-ত্রিশ হাজার না হলে তো হবেই না।আমি আপনি বাড়িতে বসে যে রকমারি খাবার আহার করি, সেই খরচটাই তো প্রবাসীরা দিবে।একবার ও কি জিজ্ঞেস করেছি বা ভেবে দেখেছি যে প্রবাসে থাকা আপনার আমার ছেলে বা ভাইটা কিভাবে খাচ্ছে????
নাহ, সময় কই এতকিছু ভাবার।ঐ প্রবাসে থাকা ছেলেটা সকালে পলিথিনে করে কাজের জায়গায় খাবার নিয়ে যায় তা দুপুরে খায়।
পলিথিনে থাকা খাবারটা যে কত ভালো থাকে তা জানে আমার আর আপনার প্রবাসে থাকা ভাইটা।
প্রবাসে থাকা ভাইটা এসবের বিনিময়ে আপনার কাছে বেশি কিছু চায় না,
চায় শুধু একটু ভালোবাসা, একটু মিষ্টি কথা, হাসিমাখা মুখ।কিন্তু আপনার আমার সেই সময়টুকুই নেই।
আপনাদের কাছে হাতজোড় করে বলতেছি প্রবাসীদের একটু ভালোবাসা দিন।
ভালো থাকুক প্রবাসীরা।
তোমাদের প্রতি রইলো হাজারো ভালোবাসা।

আমাদের সংবাদ শেয়ার করুন

One response to “প্রবাসীদের না বলা গল্প : ব্লগার মীর”

  1. mirchapter says:

    ধন্যবাদ মিলন ভাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 jagrotoonews.com
Developed BY MRH
[X]