সর্বশেষ আপডেট
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়িতে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার অরুয়াইল ইউপি নির্বাচনে আবদুল হাকিম দলীয় মনোনয়ন সহ বিজয় প্রত্যাশী সরাইল উপ-নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার চেস্টায় ৩ তরুণীর কারাদণ্ড সরাইল চুন্টা ইউপি’র উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী কুড়িগ্রামে পাওয়ার ট্রিলারের ফলায় জড়িয়ে শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে বিএনপির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে শিশু- নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি ও মতবিনিময় সভা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সহায়ক উপকরণ পেলেন কুড়িগ্রামের ২৫ জন দুঃস্থ প্রতিবন্ধী কুড়িগ্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার
কিছু পরাজয় মেনে নেওয়া আনন্দের : সাইফ তমাল

কিছু পরাজয় মেনে নেওয়া আনন্দের : সাইফ তমাল

মনে হয় দিনগুলো সেদিন। বিমানবন্দরে মায়ের চোখেরজল আমার হৃদয় ভিজিয়ে স্যাঁতসেঁতে করে দিয়েছিল। জীবনে কোনোদিন ভাবিনি এভাবে আমার প্রবাস নামের নৌকায় ভাসতে হবে। সেদিন বিশাল একটা পাথরখন্ড বুকে চাপিয়ে স্বপ্ন ছোঁয়ার আশায় বিমানে পা রেখেছিলাম। সেই মুহুর্তে আমার মনটা এতোটা পাথর হবে সেকথা মনে পড়লে এখনো শরীর শিউরে ওঠে। উদার আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে প্রকৃতির মত নানান ঢঙ্গে হেসেছি। পাহাড়ের বুক চিরে পাথর বেয়ে যেমন ঝর্না নামে, সেদিন আমার চোখ দু’টি বেয়ে নেমেছিল ঝর্নার মত জলধারা। চোখেরজল গড়িয়ে পড়তে পড়তে বুকের উপর শার্টের বেশকিছু অংশ ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছিল। তাই বলে আমি কিন্তু মোটেও কাঁদিনি। শুধু বলক দিয়ে দু’চোখ বেয়ে পড়েছিল কষ্টের নির্যাস। আমরা কেউ কখনো বুঝতে পারি না পাহাড় ও নদীর কাঁন্নার বিশালতা কতোটা দিগন্ত জুড়ে বিস্তার করতে পারে। মানুষের চোখেরজল পাহাড়ের থেকেও উত্তপ্ত গতিবেগ।

নিজহাতে রোপন করা কামিনী ফুলগাছের বেড়ে ওঠা আমি দেখতে পারিনি। কামিনীফুলের ঘ্রাণ অনেক নিরব, কিন্তু স্থায়িত্ব দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। সিঙ্গাপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রথম কামিনী ফুলগাছ দেখে চমকিত হয়েছিলাম। অনেকক্ষণ গাছের সবুজপাতার উপর হাত রেখে দাঁড়িয়ে শুনেছিলাম বৃক্ষের ও হলুদ কষ্ট আছে। দুঃসময়ে পাতারা হয়ে যায় অনেক নিরুপায়। সময় যখন মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন গাঢ় সবুজপাতা হয়ে যায় হলুদ। প্রকৃতির নিয়মে ঝরে পড়ে যায়। লকডাউনে থেকে অনেকবার মনে পড়েছে কামিনী ফুলগাছের ছোট ছোট শাখা-প্রশাখার কথা। মানুষের প্রথম জীবন মখমলের মত নরম, নিষ্পাপ। তারপর ঘাতপ্রতিঘাতে আস্তে আস্তে হয়ে যায় কংক্রিট। সবসময় আমার মনের মধ্যে ভালোবাসার কোকিল বারবার ডেকে বলতো বসন্তের আগমনী বার্তা।

যেদিন জন্মভূমি ছেড়ে সিঙ্গাপুর দ্বীপের মধ্যে পরাজিত হতে এসেছিলাম। সেদিন এই দ্বীপের বাতাস আমাকে ইশারায় কাছে ডেকে এনেছিল। কাছে ডেকে মায়ার জালে বন্দী রেখেছে বছরের পর বছর। এই দেশের গাছপালা, ফুল, পাখি, পথ, আকাশ সমান দালানকোঠা আর সুশৃঙ্খল পরিবেশ আজ আমাকে তাদের প্রয়োজনে ভালোবেসেছে।

আগামীকাল যখন বাতাসের কাছে আমার যৌবন বয়সের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে তখন আমাকে ঘৃণা করবে এই শহর। এই শহরের প্রতিটি স্তর। এই শহরের মানুষের দৈনন্দিন ব্যস্ততা থাকবে বরাবরের মত। শহরের পার্ক কখনো উপলব্ধি করবে না আমার মত একজন নগণ্য মানুষের পদচিহ্ন ছিল তার আঙ্গিনায়। বাতাস প্রলোভন দেখিয়ে ফুলের সুবাস আমার বিপরীত দিকে নিয়ে যাবে। পড়ে থাকবে কাকডাকা ভোর। সূর্য উঠার আগে ঘুম থেকে উঠে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার ব্যস্ততা থাকবে না।

কোনোএক অশুভ ক্ষণে এই দেশের আলোবাতাস, পিচঢালা পথ আমাকে জানিয়ে দেবে নিজ দেশে ফেরার বার্তা। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে তখন আমিও রওনা দেবো বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে। সেদিন দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরে আমাকে বিদায় জানাতে কেউ অপেক্ষায় থাকবে না। তাড়াহুড়োর ভিতর গোপনে দু’ফোটা চোখেরজল ফেলে যাবো। কেউ দেখতেও পারবে না চোখ থেকে ঝরে পড়া জলের ফোটা দু’টো। যে জল কোনোদিন কারোর কাছে মূল্য চাইবে না। রেখে যাবো এই দেশে, আমার হৃদয় নিংড়ানো সমস্ত ভালোবাসার ত্যাগী দিনগুলো।

আমাদের সংবাদ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 jagrotoonews.com
Developed BY MRH
[X]