সর্বশেষ আপডেট
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়িতে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার অরুয়াইল ইউপি নির্বাচনে আবদুল হাকিম দলীয় মনোনয়ন সহ বিজয় প্রত্যাশী সরাইল উপ-নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার চেস্টায় ৩ তরুণীর কারাদণ্ড সরাইল চুন্টা ইউপি’র উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী কুড়িগ্রামে পাওয়ার ট্রিলারের ফলায় জড়িয়ে শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে বিএনপির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে শিশু- নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি ও মতবিনিময় সভা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সহায়ক উপকরণ পেলেন কুড়িগ্রামের ২৫ জন দুঃস্থ প্রতিবন্ধী কুড়িগ্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার
হে মাবুদ, তুমি আমাদের প্রাণ রক্ষা কর

হে মাবুদ, তুমি আমাদের প্রাণ রক্ষা কর

আপনি একজন বিদেশ ফেরত অথবা দেশে বসবাসকারী কেউ। আপনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গিয়েছেন। অথবা আপনার করোনাভাইরাস হতে পারে সেই সন্দেহে প্রশাসনের লোক আপনাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইন কি আপনি জানেন না। হোম কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে ইংরেজি শব্দ। আপনি এটা সম্পর্কে মোটেও অবগত নন। আপনি এই শব্দটা জীবনে প্রথম শুনেছেন। শুধু আপনি না, অনেকেই এই শব্দটার সাথে তেমন পরিচিত নয়।

প্রশাসনের লোক আপনাকে বুঝিয়ে দেবে হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে। আপনি তখন হোম কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। অনেকটা জোরপূর্বক কুনিয়ান খাইয়ে দেওয়ার মত। আপনিও জীবনের ভয়ে খেয়ে নিবেন। ১৪ দিন আপনাকে আলাদাভাবে থাকতে হবে। একটা ঘরে একা একা থাকতে শুরু করলেন।

আপনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কারোর সংস্পর্শে যেতে পারবেন না। যদিও আপনার কাছে খুবই বিরক্তিকর মনে হবে। তবুও পরিবার ও বৃহত্তর জনস্বার্থে আপনাকে মেনে নিতে হবে। আপনি মেনে নিলেন। আলাদাভাবে থাকতে শুরু করলেন। আপনি অসুস্থ জেনে পরিবারের লোকজন আপনাকে প্রতিদিন ভালো ভালো খাবার খাওয়াবে। আপনার পরিবারে হয়তো প্রতিদিন আলাদাভাবে ২ থেকে ৩ রকমের তরকারি রান্না হতো। আপনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় ৫ থেকে ৭ রকমের খাবার তৈরি করা হয়। তারা মনে করে আপনি খুবই অসুস্থ। এই অবস্থায় আপনার ভালো ভালো খাবার খাওয়া দরকার।

যাইহোক কয়দিন আলাদাভাবে থাকাখাওয়ার পর আপনার কাছে খুবই বিরক্তিকর মনে হবে। আপনার মা-বাবা অথবা স্ত্রী বলবে এতকয়দিন হয়ে গেলো আমরা সবাই আলাদাভাবে খাবার খাচ্ছি এতে ভালো দেখায় না। তারা বলবে একদিন সবাই একসাথে খাবার খেলে তেমন কিছু হবে না! পরেরদিন রাত্রিবেলা সবাই মিলে খাবার খেলেন। আপনি যে জগ অথবা গ্লাস হাতে নিয়ে পানি পান করেছেন সেগুলো তারাও হাতে ধরলো। সবার ভুলবশত আপনি সবার সংস্পর্শে (Close contact) চলে গেলেন।

মাঝেমাঝে চায়ের দোকানে গিয়ে চায়ের আড্ডা জমিয়ে বাসায় ফিরে আসবেন। আবার কোনোকোনো সময় বন্ধুদের সাথে মধ্যরাত অব্ধি তাসের বাণ্ডিলে সাবোল কেটে ইস্কাবনের টেক্কা বাড়ি দিয়ে আসর গরম করে ফেলবেল। আপনার বন্ধুরাও জানে না হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে। এমনকি একে অপরের সংস্পর্শ (Close contract) সম্পর্কে কিছুই জানে না। মাতাল হয়ে তারাও রুইতনের টেক্কার দিকে তাকিয়ে আনন্দে মৃদু হাসবে। ততক্ষণে আপনি তাদের সাথে মিশে গেছেন। তারা আপনার মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনার মধ্যে পড়ে গেলো।

এভাবে থাকতে আপনার কাছে জেলখানায় বন্দি কয়েদির মত মনে হবে। হটাৎ একদিন ভাই, বন্ধু অথবা স্ত্রীর সাথে চলে যাবেন মার্কেটে। মার্কেটে ঘুরে ঘুরে বাজার করতে করতে আপনি খুবই তৃষ্ণার্ত হয়ে যাবেন। সিদ্ধান্ত নিবেন কোমল পানীয় খেয়ে একটু শীতল হবার। আপনার সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন কোনোএক মিষ্টান্ন ভান্ডারে। কোমল পানীয়োর সাথে মিষ্টান্ন জমবে বেশ। মিষ্টান্ন ও কোমল পানীয় খেয়ে আপনি তৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন। মিষ্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে যাকিছু হাতে ধরবেন সবই আপনার সংস্পর্শে চলে গেল। আপনার ব্যবহৃত জিনিসপত্র দোকানের কর্মচারী হাতে ধরে পরিষ্কার করবে। আপনি খুশি হয়ে কর্মচারীর হাতে বখশিশ দিবেন। সে আপনার দেওয়া বখশিশ সানন্দে পকেটে রেখে দেবে। তারপর কোনোএক কারণে বেখেয়ালি ভাবে নিজ মুখমণ্ডল মুছবে। আপনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, সেও আপনার দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনার মধ্যে পড়ে গেল। এভাবে ধীরেধীরে এক থেকে একাধিক।

আপনার এলাকা থেকে একটু দূরে বিবাহ, জন্মদিন অথবা মৃত্যুবার্ষিকীর দাওয়াত পেলেন। আপনি সেই দাওয়াতে অংশগ্রহণ করলেন। দাওয়াতে আসা অন্য অতিথির সাথে করমর্দন কিংবা কোলাকুলি করবেন। বহুদিন পর দেখা হওয়ায় কুশলবিনিময় থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। তারপর অনেকের সাথে দাওয়াত খেতে বসবেন। দাওয়াত খেয়ে পরিশেষে ফিরে আসবেন। এমনকি এলাকার কমিউনিটির বিভিন্ন মিটিংয়েও আপনি অংশ নিবেন।

ইতিমধ্যে আপনাকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন আসতে শুরু করেছে। বিভিন্নরকম ফল ও অন্যান্য খাদ্য খাবার নিয়ে আসছে আপনার জন্য। উৎসুক জনতা আপনাকে দেখতে আসছে আশেপাশের এলাকা থেকে। অনেক ব্যস্ততার মাঝে তারা একপলক দেখার জন্য মোটরবাইকেলে জ্বালানি তৈল খরচ করবে। কেউ আবার রিক্সা ভাড়া নিয়ে আসবে। কেউ আবার হাঁটবাজারে সদাইপাতি কিনতে যাওয়ার আগে আপনাকে দেখে যাবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন কৌতুহলী উৎসুক জনতার ভিড় লেগেই থাকবে। এমতাবস্থায় নিজেকে মনে হবে চিড়িয়াখানার পশু। আপনি বিরক্তিকর পরিস্তিতির মধ্যে বসবাস করবেন।

এই অসহ্য পরিস্তিতি থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে থাকবেন। সিদ্ধান্ত নিলেন অন্যকোথাও পালিয়ে যাবেন। প্রশাসনের লোক প্রথমদিন আপনার বাড়িতে এসেছিল তারপর আর তাদের কোনো পাত্তা নেই।

আপনি করোনাভাইরাসে(কোভিড-১৯) আক্রান্ত কি না সেইজন ডাক্তার আপনার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিল তার ফল আজকে দিবে। ফলাফল আপনি করোনাভাইরাসে(কোভিড-১৯) আক্রান্ত। আপনিও জেনে গেলেন করোনাভাইরাস আপনার ভিতর বাসা বেধেছে। পূর্বেকার যেই ভাবা সেইকাজ আপনি করলেন। মানে আপনি রাতের আঁধারে পালিয়ে গেলেন।

পরদিন সকালবেলা আপনার পরিবারের কেউ একজন রুমে আপনাকে দেখতে না পেয়ে আপনার জন্য সকালের খাবার রেখে আসবে। সকাল গড়িয়ে দুপুরবেলা তবুও আপনার কোনো হদিস নেই। তারমানে তারা ধরে নিয়েছে আপনি পালিয়ে গেছেন। প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে আপনি পালিয়ে গেছেন। অর্থাৎ প্রশাসনের প্রচণ্ড গাফিলতি জনগণ বুঝতে পেরেছে। এখন আর কিছুই করার নেই! ইতিমধ্যে খবর পেয়ে প্রশাসনের লোক আপনাকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছে।

আপনি প্রথমে যে রিক্সা থেকে নেমে রিক্সাওয়ালার ভাড়া দিয়েছেন। রিক্সাওয়ালা সানন্দে সেই টাকা হাতে ধরে পকেটে রেখেছে। সেই হাত দিয়ে ক্লান্তিতে কপাল ও মুখমণ্ডলের ঘাম মুছবে। তারপর যে বাসে চড়বেন সেই বাসের হ্যান্ড্রেল ধরবেন। বাসের অন্যান্য সুস্থ যাত্রীরাও সেই হ্যান্ড্রেল ধরবে। মানে হচ্ছে একজায়গার ময়লা হাজার জায়গায় ছড়িয়ে গেলো। আপনার মাধ্যমে এক থেকে একাধিক ব্যক্তি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলো। এমনকি আপনি ট্রেন, লঞ্চ, ফেরী এর যেকোনো একটিতে চড়লে আপনার দ্বারা হাজার হাজার জনসাধারণ আক্রান্ত হবে।

ততক্ষণে চোরপুলিশ খেলা জমে উঠবে। প্রশাসনের লোক আপনাকে হন্যে হয়ে খুঁজবে। খুঁজতে খুুঁজতে একটা সময় আপনাকে ধরে ফেলবে। এভাবে এখন সারাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের অনেক মানুষ এখনো করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক হতে পারেনি। দেশ এখন মহামারীর দারপ্রান্তে মাবুদ। দেশের মানুষদের সচেতন বিবেকবুদ্ধি বাড়িয়ে দাও। এমতাবস্থায় আমরা কোথায় যাবো হে মাবুদ। তুমি আমাদের প্রাণদাতা। তুমি আমাদের ক্ষমা কর। সারা পৃথিবীর মানুষদের রক্ষা কর। তোমার কোনো এক প্রিয় বান্দার সেজদারত দু’চোখ থেকে ঝরে পড়া পবিত্র জলের উছিলায় বিশ্ববাসীদের রক্ষা কর। বাংলাদেশের সকল মানুষকে রক্ষা কর মাবুদ।

সাইফ তমাল
লেখক,সিঙ্গাপুর প্রবাসী

আমাদের সংবাদ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 jagrotoonews.com
Developed BY MRH
[X]