সর্বশেষ আপডেট
কুড়িগ্রামে পাওয়ার ট্রিলারের ফলায় জড়িয়ে শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে বিএনপির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে শিশু- নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি ও মতবিনিময় সভা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সহায়ক উপকরণ পেলেন কুড়িগ্রামের ২৫ জন দুঃস্থ প্রতিবন্ধী কুড়িগ্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার নারায়নগঞ্জে সাংবাদিক খুন: হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি করেছে বিএমএসএফ কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামন থেকে ভুয়া আইনজীবী আটক কুড়িগ্রামে ধর্ষক আসিফ ইকবালের ফাঁসির দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কুড়িগ্রামে নারী ও শিশু ধর্ষনের বিচারের দাবীতে বিভিন্ন সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠনের মানববন্ধন
সাইমা সদিয়া’র ছোটগল্প, ”অসম্পূর্ণ ভালোবাসা”

সাইমা সদিয়া’র ছোটগল্প, ”অসম্পূর্ণ ভালোবাসা”

অসম্পূর্ণ ভালবাসা
সাইমা সদিয়া

———
কোচিং ক্লাসের সব থেকে বেশি বকবক করা মেয়ে টি হলো রিশা, আর আমি তার বকবক শুনি আর মুগ্ধ হই।
বয়েজ স্কুলের হাওয়াতে স্কুলে কোনো মেয়ে নেই।
ছোট থেকে কেন জানি আমি কারো সাথে মিশতে পারতাম না। খুব একটা কথা বলতে পারতাম না। জানিনা এটা কেন হয় এটা আমার জন্মগত দোষ, নাকি অন্য কিছু ।
কিন্তু রিশা যখন ক্লাসের মেয়েদের সাথে বকবক করে তখন তার বকবকানি শুনতে কেন যেন আমার অদ্ভুত ভালো লাগে।
আমি যে রিশা কে খেয়াল করি, রিশা আজ সেটা বুঝতে পেরেছে আজকের হঠাৎ করে আমাকে বললো এই রোবট নিজে তো কোন কথা বলো না, চুপচাপ কি এত কথা শোনো।।আমিও উত্তর দিয়ে দিলাম আমি রোবট না আমি শিহাব।

রিশা হেসে উত্তর দিলো তুমি শিহাব না রোবট। আজ থেকে আমরা তোমাকে রোবট মেন বলে ডাকবো।
সেই থেকে, আমার কোচিং এর নাম হয়ে গেল রোবট ম্যান ।
কি আর করা। এই নিয়ে আমিও আর কোনো প্রতিবাদ করিনি। কারণ রিশার,সবকিছুই যেনো আমার ভাল লাগতো, রিশার বাবা আর আমার বাবা একই অফিসে চাকরি করার সুবাদে, যেকোন প্রোগ্রাম হলে আমাদের দেখা সাক্ষাত হতো।আমাদের অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা আর দশ দিন পর।
পরীক্ষার আগে আর দশ দিন কোচিং হবে না।
এই দশদিন বাড়িতে প্রচুর একাকীত্ব বোধ হচ্ছে।
জানিনা এমনটি হওয়ার তো কথা নয়।

আমার তো গ্যাঞ্জাম ছাড়া একা থাকতে সবসময় ভাল লাগতো রিশার বকবকানি গুলো প্রচুর মিস করছি।
বৃত্তি পরীক্ষা হলো। রেজাল্ট বের হওয়ার পর শুনলাম রিশা নাকি ব্যক্তি পেয়েছে। শুনে খুব ভালো লাগলো।
যদিও আমি বোর্ডে প্লেস করেছি তৃতীয় সে করেছে ৩০ তম।
এত আড্ডা মেরে ও এত ভালো রেজাল্ট করেছে এটাই তো অনেক।
আর আমি তো সারাদিন পরেও প্রথম হতে পারলাম না।
নতুন ইংরেজী বর্ষের একটি পার্টি অফিস থেকে অ্যারেঞ্জ করা হয়েছে, সেখানে আমাদের বাসার সবার দাওয়াত খুব ভালো লাগছে। প্রায় দুই মাস হলো রিশার সাথে দেখা নেই, ওর সাথে দেখা হবে।

অবশেষে পার্টিতে রিশার সাথে দেখা পেলাম। রিশার গায়ে প্রচন্ড জ্বর তারপরে রিশা এসেছে আমি আসবো বলে শুধু।
রিশার হাতে দেখি একটি মোবাইল।
লিসা নিজে থেকেই আমার কাছে এসে বলল শিহাব তুমি কেমন আছো? তুমি তো অনেক ভাল রেজাল্ট করেছো। তোমার কথা আম্মু সব সময় বলে, শিহাব এর মত পড়ালেখা করবে, একটু বকবকানি কমাবে।দেখো শিহাব কত শান্তশিষ্ট।
তোমার জন্য আমাকে কথা খাইতে হয়।
রিশাকে আমি ছোট্ট করে উত্তর দিলাম সরি।
বার বার ফোনের কন্টাক্ট নাম্বার নিতে ইচ্ছে করছিলো,কিন্তু বলার সাহস পাচ্ছিলাম না।

আমিতো নিজেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন কিনি নি।কিভাবে চাই। কিন্তু এবার কিনে ফেলতে হবে হয়তো।
পার্টি শেষে বাসায় আসার সময় দেখি, রিশা আমাকে একটি ছোট্ট কাগজ দিয়ে বললো,শিহাব আমার মোবাইল নাম্বার। তুমি চাইলে কোন প্রয়োজন এই নাম্বারে কল করতে পারো।
মনের মধ্যে আনন্দ টা কই রাখি খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
বাসায় আব্বুর সাথে অনেক জিদ করে, নিজেও একটি মোবাইল ফোন কিনে ফেললাম। আঁকবো বারবার আমাকে বলছিলে তুইতো কারও সাথে কথাই বলিসনা। তোর তো কোনো বন্ধু নেই। মোবাইল ফোন দিয়ে কি করবি।আমি বললাম কাছে রাখবো।আমার ফোনের প্রথম কল ছিলো রিশাকে, এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি।

রিশা আমার ফোন পেয়ে আমাকে বললো এটা কি রোবটের ভয়েস। আমি উত্তর দিলাম হ্যা রোবট ম্যান এর ভয়েস।
হঠাৎ কি মনে করে কল দিয়েছি জিজ্ঞেস করতেই বললাম, আমার ফোন নাম্বারটা দেওয়ার জন্য ফোন করেছে আর বেশি কিছু বলার সাহস হলো না। ৫০সেকেন্ডে আমাদের কথা শেষ হয়ে গেলো।
এক সপ্তাহ পর দেখি রিশা নিজেই আমাকে কল দিয়েছে।আমাকে সে বলপ আমার সাথে দেখা করতে চাই, আমাদের বাসার কাছের টেইলার্সে নাকি কাজ আছে তাই আসবে।
কথাটা শোনার পর আমার হাত-পা থরথর করে কাঁপছে। সিদ্ধান্ত নিলাম না এটা করতেই হবে।
অবশেষে তার সাথে দেখা করতে যেয়ে দেখি, তার সাথে তার মা আসছে, চুপচাপ এক ঘণ্টা শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম তাদের সাথে। রিশা কে শুধু দেখছিলাম কিন্তু মুখ দিয়ে কোন কথা বলার সাহস ছিল না।
রিশা আমার দেখা সবথেকে সুন্দর মেয়ে।
তাকে যতই দেখি ততই মুগ্ধ হই।
বাসায় এসে সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের শান্তশিষ্ট সভাব আমার বদলাতে হবে।

সামনে এসএসসি পরীক্ষা, পড়ালেখায় মন দেওয়াটা খুব জরুরী। পরীক্ষা শেষ হলে রিশা কে এবার বলেই ছাড়বো আমার মনের অনুভূতির কথা।
পরীক্ষা শেষ হলো সেদিন ঠিক সেইদিনই আমি রিশা কল করলাম, বললাম কফিশপে দেখা করতে চাই।
এসব ঠিক সময়মতো কফিশপের চলে আসলো, সাথে নিয়ে আসলো বান্ধবী। তখন মনের মধ্যে প্রচুর রাগ হচ্ছিল আজকেও বলা হবেনা।
মাঝে মাঝে মনে হয়। রিশা আমাকে পছন্দ করে আবার মাঝে মাঝে এমন সব কাণ্ড দেখলে মনে হয় সে আমাকে বন্ধু ছাড়া কিছুই ভাবে না।

আমি এখন প্রতিদিনের রিশা কে মোবাইলে ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কাহিনী করে কল করা শুরু করেছি। যে ভাবেই হোক ওর সাথে অনেকটা হালকা হয়ে ভয় দূর করতে হবে। হঠাৎ একদিন রিশা আমাকে ফোনে বললো- আমাদের তো কলেজে ভর্তি শুরু হয়ে গেলো, একদিন চলো বাহিরে দেখা করি।ভালো লাগলো ওর কথা শুনে। মেন্টালিটি নিয়ে গেলাম আজকে কেউ সাথে থাকবে না। যে দেখি আসলেই ওর সাথে কেউ নেই খুব ভালো লাগছিলো।
রিশা আমাকে বলা শুরু করলো, তুমি এত বকবক কোথায় থেকে শিখেছো। আগে তো এত বকবক করতে না। বলতো কাহিনী টা কি।
আমি তার এমন প্রশ্ন শুনে থতমত খেয়ে গিয়েছি। কি উত্তর দিবো,ভেবে পাচ্ছিলাম না সেদিনও আমার আর কিছু বলা হয়ে ওঠেনি।

এদিকে আমার কলেজের ফার্স্ট ইয়ার থেকে সেকেন্ড ইয়ারে উঠার পরীক্ষায় খারাপ হবার কারনপ বাসা থেকে, এতটা চাপ দিলো, পড়ালেখা ছাড়া যেন আর সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। এভাবে আর মাঝখানে রিশার সাথে খুব একটা দেখা কথা হতো না। ইন্টার পরীক্ষা শেষ হবার পরে এডমিশন কোচিং এর জন্য আব্বু আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিলো আর রিশা থেকে গেলো বরিশাল।
অবশেষে আমি ঢাকার একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে গেলাম। রিশার কোথাও চান্স না পাওয়ায় বরিশালের একটি কলেজে অনার্সে ভর্তি হলো।
ভর্তি হবার পরে মনে করলাম, এটাই হলো আমার তাকে মনের ভালোবাসার কথা বলার উত্তম একটি সময়।

আমি একটি কাগজে আমার পাঁচ বছরের জমানো ভালোবাসার কথা লিখলাম কারণ আমি জানি সামনে গেলে আর আমার বলার কোন সাহস থাকবে না। তাই তাকে এই চিঠিটা দিয়ে বলবো আমি তাকে ভালোবাসি।
দেখি রিশা নিজে আমাকে কল দিয়ে ডাকলো, সে নাকি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলবে আমাকে।
আমিও সম্পন্ন প্রিপারেশন নিয়ে গেলাম চিঠিটা দেওয়ার জন্য।রিশা বাগ থেকে বের করে একটা কার্ড আমার হাতে দিলো। আর সমানে সে হেসে চলেছে,বলছে তুমি আমার খুব কাছের বন্ধু তাই তোমাকে প্রথম কার্ড দিলাম, খুলে দেখো।
কার্ড খুলে দেখি, সামনের সপ্তাহে রিশার বিয়ে।
আমার পকেটের চিঠিটা রিশাকে দেওয়া হলো না।
তাকে জিজ্ঞাসা করলাম বিয়েতে সে খুশি? ছেলে পছন্দ? আমাকে সে হেসে উত্তর দিলো- আমার স্বপ্নের রাজপুত্রের মতো। তখন শুধু আমার মনে হতে থাকলো- পাঁচ বছর আগে কেনো আমি তাকে ভালোবাসার কথা বলিনি। আর ভালোবাসার কথা বলতে আমার অনেকটা দেরি হয়ে গেল আর আমার ভালোবাসাটা আজও অসম্পূর্ণ থেকে গেলো। তাকে হয়তো আগে সাহস করে বললে এমন দিন আসতো না।

আমাদের সংবাদ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 jagrotoonews.com
Developed BY MRH
[X]