সর্বশেষ আপডেট
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়িতে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার অরুয়াইল ইউপি নির্বাচনে আবদুল হাকিম দলীয় মনোনয়ন সহ বিজয় প্রত্যাশী সরাইল উপ-নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার চেস্টায় ৩ তরুণীর কারাদণ্ড সরাইল চুন্টা ইউপি’র উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী কুড়িগ্রামে পাওয়ার ট্রিলারের ফলায় জড়িয়ে শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে বিএনপির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে শিশু- নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি ও মতবিনিময় সভা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সহায়ক উপকরণ পেলেন কুড়িগ্রামের ২৫ জন দুঃস্থ প্রতিবন্ধী কুড়িগ্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার
ইতালির মাটিতে বাঙালি কন্যার বাজিমাত।

ইতালির মাটিতে বাঙালি কন্যার বাজিমাত।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল ও রোজিনা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা মাহাজাবিন দিলরুবা দিপু। কোনো এক শুভক্ষণে টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার তক্তারচালা গ্রামে তার জন্ম হয়। জীবনের তাগিদে হঠাৎই দিপুর বাবা চলে যান সুদূর ইতালিতে। শুরু হয় তার কর্মজীবনের পথচলা। একদিকে কর্ম অপর দিকে স্ত্রী-সন্তানের মমতা। অবশেষে মমতার টানে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে যান নিজের কাছে। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে পরম শান্তি অনুভব করেন বাবা। শুরু হয় আরেক জীবনের গল্প।

ওখানকার স্কুলেই পড়তে শুরু করে দিপু। নিজের মেধা-মননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সবাইকে পরিচয় করাতে থাকে বাংলার লাল সবুজ পতাকার সাথে। প্রতিটি ক্লাসেই একেরপর এক ভালো রেজাল্ট করে কেড়ে নেয় সবার মন। অল্পতেই পরিচিত হয়ে যায় সহপাঠীদের কাছে। বাংলাদেশকে না দেখা শিক্ষার্থীরা দিপুর মাঝেই দেখতে পায় এক টুকরো বাংলাদেশ।

চলতে থাকে জীবনের রেলগাড়ি। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার মাঝেও দিপু অনুভব করে ৬৮ হাজার বর্গমাইলের গভীর মমতা। কেনইবা অনুভব করবে না! এ যে তারই জন্মভূমি। তাই মাঝে মাঝে ইতালিয়ান চোখ ধাধানো রাজপথে বাংলার সংস্কৃতি তুলে ধরতে বাঙালি সাজে বেরিয়ে যায় দিপু। শাড়ি-চুড়ি পরে হাঁটতে হাঁটতে হয়তো কখনো ভাবে- এইতো গ্রামের সেই শিশিরভেজা সবুজ ঘাস, এইতো হলদেরাঙা সরিষা ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এক বাঙালি নারী।

দীর্ঘদিন পর প্রথম স্টেশনে পৌঁছে যায় জীবনের রেলগাড়ি। খবর ছড়িয়ে যায়; ৭০ হাজার ছেলেমেয়েকে পেছনে ফেলে ইতালির সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ঐ যে বাঙালি মেয়েটা। কী যেন নাম! দীপু! হ্যাঁ দীপু। শাড়ি চুরি পরে ঘোরাঘুরি করা মেয়েটা এতো মেধাবি! কে যেন বলে ওঠে- ওরা বাঙালি, ওরা জিতে যেতেই পছন্দ করে।
দিপুর নামের পাশে দেখা যায় লাল-সবুজ পতাকা। সবাই অন্তরে গেঁথে নেয় পতাকার রঙ। কিছু মানুষের মুখে উচ্চারিত হয় ‘দিপু ও বাংলাদেশ’।

একরাশ আনন্দ সইতে না পেরে কেঁদে ফেলেন দিপুর মমতাময়ি মা। বাবা এসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করেন ‘তোমার এ সফলতার পর তোমার জীবনের লক্ষ্য আমার খুবই জানতে ইচ্ছে করছে, আমি কী জানতে পারি?’
দিপু জানায়, সে বড় ডাক্তার হয়ে প্রবাস ও দেশের মানুষের সেবা করার স্বপ্ন লালন করছে। ভবিষ্যতে দেশে ফিরে দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়।
দিপুর বলা শেষ হতেই বাবা আনন্দে চোখ মুছেন। তার চোখে ভেসে ওঠে চিরচেনা তক্তারচালা গ্রাম। ভেসে ওঠে সখীপুরবাসীদের নিয়ে গঠিত সখীপুর প্রবাসী ইউনাইটেড ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের কথা। যেটার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা তিনি। আর তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার কেন্দ্রীয় মহিলা সম্পাদিকা। বাবা মা আর মেয়ে মিলে দেশের মানুষের জন্য জ্বালতে চায় আশার আলো। সফলতার শেষ স্টেশনে নিয়ে যেতে চায় জীবনের রেলগাড়ি।

আমাদের সংবাদ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 jagrotoonews.com
Developed BY MRH
[X]